নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হামেশা ফুড লিমিটেড ও কাশ্মীর গ্রুপ লিমিটেড নামে দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ২০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, মালামাল বিক্রির নগদ ৯৩ হাজার টাকা ও একটি তামার ববিন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সোনারগাঁয়ের হামেশা ফুড লিমিটেড কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে একদল ডাকাত। এ সময় তারা কারখানা থেকে তামার তার, মনিটর ও মোবাইল ফোন লুট করে একটি পিকআপে করে পালিয়ে যায়।
এর পরদিন ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে একই কায়দায় কাশ্মীর গ্রুপ লিমিটেড কারখানায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনা দুটি তদন্তে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান, পিপিএমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর তত্ত্বাবধানে এবং 'বি' সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএম এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে দুটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। এসআই শেখ পারভেজ বিন কামাল চৌধুরী, এসআই রিফাত উদ্দিন ও এসআই এবিএম গোলাম কিবরিয়াসহ পুলিশের সদস্যরা ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান।
পুলিশের অভিযান শেষে গত ৩১ অক্টোবর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু (৩০) শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নগরবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা (৩৯) কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দড়িমাছুমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আনারকলি এলাকার হাফসা ট্রেডার্স থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার কুরদোনাপাড়া গ্রামের বাছের মিয়া (২৫), টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মালিরচারা গ্রামের অনিল বাবু (৩৫) এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার সেনপাড়া গ্রামের ইমন হাসান ওরফে রাশেদুল (২৮)কে গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ২০০ কেজি তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা তারগুলো ৩০০ আরের ৪৪০ মিটার ক্যাবলের কভার থেকে ছাড়ানো হয়েছিল। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৬৮৫৮ নম্বরের একটি খোলা পিকআপ, লুট করা মালামাল বিক্রির নগদ ৯৩ হাজার টাকা এবং একটি তামার ববিন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের ১ নভেম্বর আদালতে পাঠানো হলে তাদের মধ্যে রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু এবং আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত রাজুর বিরুদ্ধে একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপর গ্রেপ্তারকৃত অনিল বাবুর বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে হামেশা ফুড লিমিটেড ও কাশ্মীর গ্রুপ লিমিটেড নামে দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ২০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, মালামাল বিক্রির নগদ ৯৩ হাজার টাকা ও একটি তামার ববিন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিট থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সোনারগাঁয়ের হামেশা ফুড লিমিটেড কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে একদল ডাকাত। এ সময় তারা কারখানা থেকে তামার তার, মনিটর ও মোবাইল ফোন লুট করে একটি পিকআপে করে পালিয়ে যায়।
এর পরদিন ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে একই কায়দায় কাশ্মীর গ্রুপ লিমিটেড কারখানায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনা দুটি তদন্তে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান, পিপিএমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর তত্ত্বাবধানে এবং 'বি' সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক, পিপিএম এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আনোয়ার হোসেনের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে দুটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। এসআই শেখ পারভেজ বিন কামাল চৌধুরী, এসআই রিফাত উদ্দিন ও এসআই এবিএম গোলাম কিবরিয়াসহ পুলিশের সদস্যরা ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালান।
পুলিশের অভিযান শেষে গত ৩১ অক্টোবর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু (৩০) শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নগরবোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা (৩৯) কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দড়িমাছুমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাকে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন আনারকলি এলাকার হাফসা ট্রেডার্স থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অন্যদিকে, নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার কুরদোনাপাড়া গ্রামের বাছের মিয়া (২৫), টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মালিরচারা গ্রামের অনিল বাবু (৩৫) এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার সেনপাড়া গ্রামের ইমন হাসান ওরফে রাশেদুল (২৮)কে গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ২০০ কেজি তামার তার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা তারগুলো ৩০০ আরের ৪৪০ মিটার ক্যাবলের কভার থেকে ছাড়ানো হয়েছিল। এ ছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৬৮৫৮ নম্বরের একটি খোলা পিকআপ, লুট করা মালামাল বিক্রির নগদ ৯৩ হাজার টাকা এবং একটি তামার ববিন উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের ১ নভেম্বর আদালতে পাঠানো হলে তাদের মধ্যে রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু এবং আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত রাজুর বিরুদ্ধে একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপর গ্রেপ্তারকৃত অনিল বাবুর বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

মতামত