ঢাকা    রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
সর্বশেষ খবর, সবার আগে

জাতীয়

২৫ বছরেও ডাম্পিং স্টেশন নেই সোনারগাঁয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

২৫ বছরেও ডাম্পিং স্টেশন নেই সোনারগাঁয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ—ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্পসম্ভাবনায় সমৃদ্ধ একটি জনপদ। একদিকে প্রাচীন বাংলার রাজধানীর গৌরব, অন্যদিকে অসংখ্য শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রমবর্ধমান জনবসতি। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সোনারগাঁয়ের অর্থনৈতিক ও নাগরিক জীবন। বেড়েছে মানুষের বসতি, বেড়েছে শিল্পায়ন, প্রতিদিন বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। কিন্তু সেই তুলনায় গড়ে ওঠেনি পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ২০০১ সালে সোনারগাঁ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ২৫ বছরেও সেখানে গড়ে ওঠেনি নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন। ফলে কোথায় যাবে প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ আবর্জনা, সেই প্রশ্নের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।

এর প্রভাব পড়ছে সোনারগাঁয়ের পরিবেশ ও জনজীবনে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ, নদী-খালের পাড়ে আবর্জনা এবং জনবসতির আশপাশে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে বাড়ছে দূষণ ও দুর্গন্ধ। প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্য জমে দূষিত হচ্ছে জলাশয়। এতে শুধু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে না, মশা-মাছির বিস্তার ও নানা রোগের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

শিল্পকারখানায় সমৃদ্ধ সোনারগাঁয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল-ক্লিনিক, বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে পৃথকীকরণ ও নিরাপদে নিষ্পত্তি করা না হলে মাটি, পানি ও বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাবর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশে গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নদী ও খালও এই দূষণের বাইরে নয়। একসময় যে নদী-খাল মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল, সেগুলোতে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বাড়ছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব বর্জ্য ড্রেন ও জলপ্রবাহে ছড়িয়ে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সোনারগাঁয়ের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি স্থায়ী ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি (ইএসএডিএস)। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও মহাসচিব মীযানুর রহমানের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে সোনারগাঁয়ের বর্তমান পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে একটি দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশসম্মত সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার উপযুক্ত স্থানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, গৃহস্থালি, শিল্প ও বাজারের বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ এবং হাসপাতাল-ক্লিনিকের চিকিৎসাবর্জ্য নিরাপদে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, নদী-খাল ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত অভিযান, মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার উৎপাদনের ব্যবস্থার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটি মনে করে, শুধু ময়লা সংগ্রহ করে অন্য কোথাও ফেলে দিলেই বর্জ্য সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন বর্জ্যের উৎস থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত একটি কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সোনারগাঁ। পানাম নগরসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন এ জনপদের পরিচয় বহন করে। একই সঙ্গে এখানকার নদী, খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক পরিবেশও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অথচ অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী জনপদের পরিবেশ আজ নানা চাপে রয়েছে।

উন্নয়ন ও শিল্পায়ন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই উন্নয়নের মূল্য যদি দিতে হয় নদী, খাল, কৃষিজমি ও মানুষের সুস্থ জীবন দিয়ে, তাহলে তা কখনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। একটি জনপদের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেখানকার মানুষ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির মহাসচিব মীযানুর রহমান বলেন, সোনারগাঁয়ের পরিবেশ রক্ষা এখন সময়ের দাবি। বছরের পর বছর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নদী-খাল, মহাসড়ক ও জনবসতি দূষণের ঝুঁকিতে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সোনারগাঁ রেখে যেতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন।

স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সোনারগাঁয়ে স্থায়ী আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন এবং সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সোনারগাঁয়ের মানুষের প্রত্যাশা, এই আবেদন যথাযথ গুরুত্ব পাবে। মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তূপ, নদী-খালের দূষণ আর অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে ঐতিহ্যবাহী এই জনপদ। কারণ সোনারগাঁ শুধু অতীতের গৌরব নয়, এটি আগামী প্রজন্মেরও ঠিকানা। সেই ঠিকানাকে পরিচ্ছন্ন, সুস্থ ও বাসযোগ্য রাখা এখন সবার দায়িত্ব।২৫ বছরেও ডাম্পিং স্টেশন নেই সোনারগাঁয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ—ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্পসম্ভাবনায় সমৃদ্ধ একটি জনপদ। একদিকে প্রাচীন বাংলার রাজধানীর গৌরব, অন্যদিকে অসংখ্য শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রমবর্ধমান জনবসতি। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সোনারগাঁয়ের অর্থনৈতিক ও নাগরিক জীবন। বেড়েছে মানুষের বসতি, বেড়েছে শিল্পায়ন, প্রতিদিন বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। কিন্তু সেই তুলনায় গড়ে ওঠেনি পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ২০০১ সালে সোনারগাঁ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ২৫ বছরেও সেখানে গড়ে ওঠেনি নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন। ফলে কোথায় যাবে প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ আবর্জনা, সেই প্রশ্নের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।

এর প্রভাব পড়ছে সোনারগাঁয়ের পরিবেশ ও জনজীবনে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ, নদী-খালের পাড়ে আবর্জনা এবং জনবসতির আশপাশে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে বাড়ছে দূষণ ও দুর্গন্ধ। প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্য জমে দূষিত হচ্ছে জলাশয়। এতে শুধু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে না, মশা-মাছির বিস্তার ও নানা রোগের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।

শিল্পকারখানায় সমৃদ্ধ সোনারগাঁয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল-ক্লিনিক, বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে পৃথকীকরণ ও নিরাপদে নিষ্পত্তি করা না হলে মাটি, পানি ও বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাবর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশে গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নদী ও খালও এই দূষণের বাইরে নয়। একসময় যে নদী-খাল মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল, সেগুলোতে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বাড়ছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব বর্জ্য ড্রেন ও জলপ্রবাহে ছড়িয়ে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে সোনারগাঁয়ের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি স্থায়ী ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি (ইএসএডিএস)। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও মহাসচিব মীযানুর রহমানের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে সোনারগাঁয়ের বর্তমান পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে একটি দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশসম্মত সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার উপযুক্ত স্থানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, গৃহস্থালি, শিল্প ও বাজারের বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ এবং হাসপাতাল-ক্লিনিকের চিকিৎসাবর্জ্য নিরাপদে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, নদী-খাল ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত অভিযান, মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার উৎপাদনের ব্যবস্থার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংগঠনটি মনে করে, শুধু ময়লা সংগ্রহ করে অন্য কোথাও ফেলে দিলেই বর্জ্য সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন বর্জ্যের উৎস থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত একটি কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সোনারগাঁ। পানাম নগরসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন এ জনপদের পরিচয় বহন করে। একই সঙ্গে এখানকার নদী, খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক পরিবেশও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অথচ অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী জনপদের পরিবেশ আজ নানা চাপে রয়েছে।

উন্নয়ন ও শিল্পায়ন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই উন্নয়নের মূল্য যদি দিতে হয় নদী, খাল, কৃষিজমি ও মানুষের সুস্থ জীবন দিয়ে, তাহলে তা কখনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। একটি জনপদের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেখানকার মানুষ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির মহাসচিব মীযানুর রহমান বলেন, সোনারগাঁয়ের পরিবেশ রক্ষা এখন সময়ের দাবি। বছরের পর বছর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নদী-খাল, মহাসড়ক ও জনবসতি দূষণের ঝুঁকিতে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সোনারগাঁ রেখে যেতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন।

স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সোনারগাঁয়ে স্থায়ী আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন এবং সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সোনারগাঁয়ের মানুষের প্রত্যাশা, এই আবেদন যথাযথ গুরুত্ব পাবে। মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তূপ, নদী-খালের দূষণ আর অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে ঐতিহ্যবাহী এই জনপদ। কারণ সোনারগাঁ শুধু অতীতের গৌরব নয়, এটি আগামী প্রজন্মেরও ঠিকানা। সেই ঠিকানাকে পরিচ্ছন্ন, সুস্থ ও বাসযোগ্য রাখা এখন সবার দায়িত্ব।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

দেশচিত্র মিডিয়া

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


২৫ বছরেও ডাম্পিং স্টেশন নেই সোনারগাঁয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image



নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ—ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্পসম্ভাবনায় সমৃদ্ধ একটি জনপদ। একদিকে প্রাচীন বাংলার রাজধানীর গৌরব, অন্যদিকে অসংখ্য শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রমবর্ধমান জনবসতি। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সোনারগাঁয়ের অর্থনৈতিক ও নাগরিক জীবন। বেড়েছে মানুষের বসতি, বেড়েছে শিল্পায়ন, প্রতিদিন বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। কিন্তু সেই তুলনায় গড়ে ওঠেনি পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ২০০১ সালে সোনারগাঁ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ২৫ বছরেও সেখানে গড়ে ওঠেনি নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন। ফলে কোথায় যাবে প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ আবর্জনা, সেই প্রশ্নের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।


এর প্রভাব পড়ছে সোনারগাঁয়ের পরিবেশ ও জনজীবনে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ, নদী-খালের পাড়ে আবর্জনা এবং জনবসতির আশপাশে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে বাড়ছে দূষণ ও দুর্গন্ধ। প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্য জমে দূষিত হচ্ছে জলাশয়। এতে শুধু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে না, মশা-মাছির বিস্তার ও নানা রোগের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।


শিল্পকারখানায় সমৃদ্ধ সোনারগাঁয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল-ক্লিনিক, বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে পৃথকীকরণ ও নিরাপদে নিষ্পত্তি করা না হলে মাটি, পানি ও বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাবর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশে গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


নদী ও খালও এই দূষণের বাইরে নয়। একসময় যে নদী-খাল মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল, সেগুলোতে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বাড়ছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব বর্জ্য ড্রেন ও জলপ্রবাহে ছড়িয়ে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।


এমন পরিস্থিতিতে সোনারগাঁয়ের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি স্থায়ী ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি (ইএসএডিএস)। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও মহাসচিব মীযানুর রহমানের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।


স্মারকলিপিতে সোনারগাঁয়ের বর্তমান পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে একটি দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশসম্মত সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার উপযুক্ত স্থানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, গৃহস্থালি, শিল্প ও বাজারের বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ এবং হাসপাতাল-ক্লিনিকের চিকিৎসাবর্জ্য নিরাপদে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এ ছাড়া শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, নদী-খাল ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত অভিযান, মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার উৎপাদনের ব্যবস্থার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


সংগঠনটি মনে করে, শুধু ময়লা সংগ্রহ করে অন্য কোথাও ফেলে দিলেই বর্জ্য সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন বর্জ্যের উৎস থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত একটি কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সোনারগাঁ। পানাম নগরসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন এ জনপদের পরিচয় বহন করে। একই সঙ্গে এখানকার নদী, খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক পরিবেশও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অথচ অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী জনপদের পরিবেশ আজ নানা চাপে রয়েছে।


উন্নয়ন ও শিল্পায়ন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই উন্নয়নের মূল্য যদি দিতে হয় নদী, খাল, কৃষিজমি ও মানুষের সুস্থ জীবন দিয়ে, তাহলে তা কখনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। একটি জনপদের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেখানকার মানুষ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।


পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির মহাসচিব মীযানুর রহমান বলেন, সোনারগাঁয়ের পরিবেশ রক্ষা এখন সময়ের দাবি। বছরের পর বছর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নদী-খাল, মহাসড়ক ও জনবসতি দূষণের ঝুঁকিতে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সোনারগাঁ রেখে যেতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন।


স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সোনারগাঁয়ে স্থায়ী আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন এবং সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সোনারগাঁয়ের মানুষের প্রত্যাশা, এই আবেদন যথাযথ গুরুত্ব পাবে। মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তূপ, নদী-খালের দূষণ আর অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে ঐতিহ্যবাহী এই জনপদ। কারণ সোনারগাঁ শুধু অতীতের গৌরব নয়, এটি আগামী প্রজন্মেরও ঠিকানা। সেই ঠিকানাকে পরিচ্ছন্ন, সুস্থ ও বাসযোগ্য রাখা এখন সবার দায়িত্ব।২৫ বছরেও ডাম্পিং স্টেশন নেই সোনারগাঁয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা


নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ—ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্পসম্ভাবনায় সমৃদ্ধ একটি জনপদ। একদিকে প্রাচীন বাংলার রাজধানীর গৌরব, অন্যদিকে অসংখ্য শিল্পকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ক্রমবর্ধমান জনবসতি। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সোনারগাঁয়ের অর্থনৈতিক ও নাগরিক জীবন। বেড়েছে মানুষের বসতি, বেড়েছে শিল্পায়ন, প্রতিদিন বাড়ছে বর্জ্যের পরিমাণ। কিন্তু সেই তুলনায় গড়ে ওঠেনি পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ২০০১ সালে সোনারগাঁ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ২৫ বছরেও সেখানে গড়ে ওঠেনি নির্দিষ্ট কোনো স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন। ফলে কোথায় যাবে প্রতিদিনের বিপুল পরিমাণ আবর্জনা, সেই প্রশ্নের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।


এর প্রভাব পড়ছে সোনারগাঁয়ের পরিবেশ ও জনজীবনে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তূপ, নদী-খালের পাড়ে আবর্জনা এবং জনবসতির আশপাশে খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে বাড়ছে দূষণ ও দুর্গন্ধ। প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্য জমে দূষিত হচ্ছে জলাশয়। এতে শুধু পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে না, মশা-মাছির বিস্তার ও নানা রোগের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।


শিল্পকারখানায় সমৃদ্ধ সোনারগাঁয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল-ক্লিনিক, বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এসব বর্জ্য যথাযথভাবে পৃথকীকরণ ও নিরাপদে নিষ্পত্তি করা না হলে মাটি, পানি ও বায়ুদূষণের দীর্ঘমেয়াদি আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাবর্জ্য সাধারণ আবর্জনার সঙ্গে মিশে গেলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।


নদী ও খালও এই দূষণের বাইরে নয়। একসময় যে নদী-খাল মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ছিল, সেগুলোতে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বাড়ছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জলজ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে এসব বর্জ্য ড্রেন ও জলপ্রবাহে ছড়িয়ে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।


এমন পরিস্থিতিতে সোনারগাঁয়ের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় একটি স্থায়ী ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটি (ইএসএডিএস)। সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন ও মহাসচিব মীযানুর রহমানের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।


স্মারকলিপিতে সোনারগাঁয়ের বর্তমান পরিবেশগত সংকট তুলে ধরে একটি দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশসম্মত সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার উপযুক্ত স্থানে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, গৃহস্থালি, শিল্প ও বাজারের বর্জ্য পৃথকভাবে সংগ্রহ এবং হাসপাতাল-ক্লিনিকের চিকিৎসাবর্জ্য নিরাপদে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


এ ছাড়া শিল্পকারখানার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি, নদী-খাল ও জলাশয়ে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত অভিযান, মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার উৎপাদনের ব্যবস্থার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


সংগঠনটি মনে করে, শুধু ময়লা সংগ্রহ করে অন্য কোথাও ফেলে দিলেই বর্জ্য সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন বর্জ্যের উৎস থেকে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি পর্যন্ত একটি কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সোনারগাঁ। পানাম নগরসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন এ জনপদের পরিচয় বহন করে। একই সঙ্গে এখানকার নদী, খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক পরিবেশও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। অথচ অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এই ঐতিহ্যবাহী জনপদের পরিবেশ আজ নানা চাপে রয়েছে।


উন্নয়ন ও শিল্পায়ন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু সেই উন্নয়নের মূল্য যদি দিতে হয় নদী, খাল, কৃষিজমি ও মানুষের সুস্থ জীবন দিয়ে, তাহলে তা কখনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। একটি জনপদের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সেখানকার মানুষ পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।


পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির মহাসচিব মীযানুর রহমান বলেন, সোনারগাঁয়ের পরিবেশ রক্ষা এখন সময়ের দাবি। বছরের পর বছর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় নদী-খাল, মহাসড়ক ও জনবসতি দূষণের ঝুঁকিতে পড়ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সোনারগাঁ রেখে যেতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও তার দ্রুত বাস্তবায়ন।


স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সোনারগাঁয়ে স্থায়ী আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন এবং সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


সোনারগাঁয়ের মানুষের প্রত্যাশা, এই আবেদন যথাযথ গুরুত্ব পাবে। মহাসড়কের পাশের ময়লার স্তূপ, নদী-খালের দূষণ আর অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে ঐতিহ্যবাহী এই জনপদ। কারণ সোনারগাঁ শুধু অতীতের গৌরব নয়, এটি আগামী প্রজন্মেরও ঠিকানা। সেই ঠিকানাকে পরিচ্ছন্ন, সুস্থ ও বাসযোগ্য রাখা এখন সবার দায়িত্ব।


দেশচিত্র মিডিয়া

প্রধান সম্পাদক ইকরাম হোসেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সয়েবুল ইসলাম বার্তা সম্পাদক আরাফাত হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দেশচিত্র মিডিয়া । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
২৫ বছরেও ডাম্পিং স্টেশন নেই সোনারগাঁয়ে, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
0:00 0:00
1.0x