সোনারগাঁও সময় নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা রোডে অবস্থিত বিজয়স্তম্ভের সামনের অংশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের নির্দেশনায় পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. হোসাইনের উদ্যোগে এ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। তাঁদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে সোনারগাঁ উপজেলা রোডের বিজয়স্তম্ভ। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই বিজয়স্তম্ভের সামনের অংশে ময়লা-আবর্জনা জমে পরিবেশ নোংরা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।স্থানীয়ভাবে অভিযোগ ছিল, বিজয়স্তম্ভের আশপাশের সিএনজি ও অটোরিকশা গ্যারেজ এবং স্বপ্ন সুপারশপের ময়লা-আবর্জনা গেটের সামনে ফেলা হচ্ছিল। এতে সেখানে ময়লার স্তূপ তৈরি হয় এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানের পরিবেশ ও সৌন্দর্য ক্ষুণ্ন হচ্ছিল।এ নিয়ে ‘সোনারগাঁও সময় নিউজে’-এ সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. হোসাইনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে বিজয়স্তম্ভের সামনের অংশ পরিষ্কার করা সম্ভব হয়।সংশ্লিষ্টদের এ উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে শুধু এক দিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিজয়স্তম্ভের সামনের পরিবেশ সারা বছর পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সচেতন মহল।তাঁদের মতে, নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। পাশাপাশি বিজয়স্তম্ভের সামনে সিএনজি ও অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যানজট সৃষ্টি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াও প্রয়োজন।মহান বিজয় দিবসে বিজয়স্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সারা বছর এর পরিবেশ ও মর্যাদা রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। তাই ভবিষ্যতে যেন এই স্মৃতিস্তম্ভের সামনে আবারও ময়লার স্তূপ তৈরি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
ওসমান গণি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট’-এর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০৫ নম্বর কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড. মাহবুবুর রহমান। এ সময় মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান ; ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রদীপ কুমার অধিকারী, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাফর আলী, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ধনঞ্জয় কুমার এবং ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ফয়সাল হোসেন, মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান মিরাজসহ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্টের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মিশুক শাহরিয়ার বলেন, "একটি নৈতিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট কাজ করে যাচ্ছে। এই সংগঠন বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের দক্ষ করে তুলতে ভাষা শিক্ষা ও কম্পিউটার শিক্ষার মতো বিভিন্ন আত্মউন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে 'স্বাবলম্বী প্রজেক্ট'-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এককালীন অর্থ দিয়ে স্বাবলম্বী করেতে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনের এ ধরনের কার্যক্রম দেশ ও সমাজের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।"অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ড. মাহবুবুর রহমান বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তাঁদের পড়াশোনা, ব্যক্তিগত উন্নয়ন ও সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা শোনেন এবং তাঁদের নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন, দক্ষ ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার পরামর্শ দেন। এছাড়া সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করতে এবং ট্রাস্টের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।উল্লেখ্য, মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট’ একটি স্বেচ্ছাসেবী ও অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন। নৈতিক সমাজ গঠনের উদ্দেশ্য সামনে রেখে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের প্রতি দুই মাস অন্তর বৃত্তি প্রদান করে থাকে সংগঠনটি। বর্তমানে ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিট’-এর অধীনে ৭০ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি পান।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আজ সব প্রধান সূচকে পতন দেখিয়ে শেষ হয়েছে, তবে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ে ১২৪ কোটি টাকায়, মোট ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার বদলেছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫.৮৩ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে দিনশেষে ৫,৪১৭.৪৪ পয়েন্টে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডিএস-৩০ সূচক ৯.৪০ পয়েন্ট কমে ২,৮৬.৮৬ পয়েন্টে এবং ডিএসইএস সূচক ৩.৮২ পয়েন্ট কমে ১,০৫০.৬৭ পয়েন্টে পৌঁছায়। বাজারের মোট মূলধন ৬,৭৪,৪৭৬ কোটি ২৭ লাখ টাকায় দাঁড়ায়, যা গত বুধবারের ৬,৭৩,৪৭৮ কোটি ১০ লাখ টাকার তুলনায় ৯৯৮ কোটি টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। লেনদেনের পরিমাণও গতকাল ৪৪০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার থেকে বেড়ে ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। আজ ডিএসইতে ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়; তাদের মধ্যে শেয়ারের দাম বাড়ে ১৪৫টি, কমে ১৯০টি এবং অপরিবর্তিত থাকে ৫৩টি। লেনদেনের শীর্ষে প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার রয়েছে, যার মোট লেনদেনের পরিমাণ ১৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। বাজারে ধারাবাহিক সূচক পতনের পরও লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে সূচকের দিকনির্দেশনা ও লেনদেনের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যা যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা ইউকেএমটিও (UKMTO) নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি ওমানের খাসাব এলাকা থেকে প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ঘটেছে এবং তৎকালীন নিকটবর্তী একটি থার্ড‑পার্টি বাণিজ্যিক জাহাজের ক্যাপ্টেন প্রথম অগ্নিকাণ্ডটি লক্ষ্য করে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেন। ইউকেএমটিওর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের নাবিক ও ক্রু সদস্যদের বর্তমান অবস্থা বা নিরাপত্তা সম্পর্কে তাত্ক্ষণিক কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, জাহাজের ক্ষতির পরিমাণ, পরিবেশে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে এখনো কোনো প্রাথমিক মূল্যায়ন বা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে। ইউকেএমটিও সকল জাহাজকে হরমুজের এই সমুদ্রসীমা দিয়ে চলাচলকালে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখতে এবং সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করলে তা সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করতে আহ্বান জানিয়েছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে হরমুজের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক চলাচলে প্রভাব পড়তে পারে, তাই আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
চট্টগ্রামের কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় গুলি-ছুরি হামলায় ২৭ বছর বয়সী আবু ইউসুফ (ওরফে জীবন) গৃহীত চিকিৎসার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুবরণ করেন। হামলা ঘটে গত মঙ্গলবার রাতে, কুঞ্জছায়া ২ নম্বর সড়কে জীবনসহ চার‑পাঁচজনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠাৎ ১৩‑১৪ জনের সশস্ত্র দল, যার মধ্যে ছাত্র ও যুবদল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা ছিলেন, হেলমেট পরা, ছুরি ও পিস্তল হাতে উপস্থিত হয়ে গুলি ও ছুরিকাঘাত চালায়। পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় জীবনকে হাসপাতালে আনা হয়। ডান পা গুলি ও ছুরিকাঘাতে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পা কেটে ফেলতে হয়, তবু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে কিল‑ঘুষি মেরে, পরে ধারালো ছুরি দিয়ে আক্রমণ করা হয়। এক পর্যায়ে ইকরাম বাবু পিস্তল বের করে জীবনের পা লক্ষ্য করে গুলি চালান। হুমকি দিয়ে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত অবস্থায় জীবনের ধারণ করা ভিডিও সামাজিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি ইকরাম বাবু ও আরমানের নাম উল্লেখ করে, তাঁদের বিরুদ্ধে গুলি ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ করেন। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, ঘটনার পরদিন জীবনের মা বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় জীবনের মৃত্যুর ফলে দণ্ডবিধি ধারা ৩০২ যুক্ত করা হবে। তার মরদেহ চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দক্ষ জনশক্তি নিয়োগ, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে বাংলাদেশ ও স্পেন একমত হয়েছে এবং আলোচনাধীন চুক্তিগুলো দ্রুত চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২৮ অক্টোবর মাদ্রিদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও স্পেনের পররাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দিয়েগো মার্তিনেজ বেলিওর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সমঝোতা গৃহীত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। ব্যবসায়িক সংযোগ শক্তিশালী করা, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনা এবং বাণিজ্য প্রদর্শনী আয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সৃজনশীল অর্থনীতি, শিল্পকলা, ক্রীড়া ও পর্যটনসহ উদীয়মান ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়। বিশেষ করে ক্রীড়া কার্যক্রমকে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার উপায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়। শামা ওবায়েদ সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তাবিত সাংস্কৃতিক সমঝোতা স্মারক (MoU) দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর জোর দেন। স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদান স্বীকৃতি দিয়ে তিনি তাদেরকে দুই দেশের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপস’ উদ্যোগে স্পেনকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শূন্য সহনশীলতার নীতি পুনর্ব্যক্ত করে শামা ওবায়েদ নিয়মিত ও দায়িত্বশীল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করার সরকারের অঙ্গীকারও জোর দিয়ে বলেন। স্পেনের প্রতিমন্ত্রী বেলিও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর মাদ্রিদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগে স্পেনের সমর্থন নিশ্চিত করার প্রস্তুতি জানান। উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলো দ্রুত চূড়ান্ত করার পাশাপাশি প্রস্তাবিত অন্যান্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও একমত হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা ও নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশ-স্পেন পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের দ্বিতীয় দফা পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের কথাও উভয় পক্ষ প্রকাশ করে। বৈঠকের শুরুতে শামা ওবায়েদ স্পেনের তোলেদোতে ঘটিত ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির শোক প্রকাশ করে, মৃতদের পরিবার ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান। এই বৈঠক দুই দেশের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাস্তব ফলাফল অর্জনের আশ্বাস দিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকসেবী ও পরোয়ানা অভিযুক্তসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারগুলো বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে সম্পন্ন হয়। অভিযানটি নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারintendেন্ট মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনা ও সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিকের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১১ জন মাদকসেবী এবং দুজন আদালতে পরোয়ানা গ্রেফতারি চালু থাকা আসামি অন্তর্ভুক্ত। মাদকসেবী গ্রেফতারদের বেশ কয়েকজন সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও ইছাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। পরোয়ানা অভিযুক্ত দুই আসামি হলেন সোনারগাঁয়ের বরগাঁও এলাকার ৩০ বছর বয়সী মো. জহিরুল ইসলাম এবং হাবিবপুর এলাকার ৩১ বছর বয়সী সাদ্দাম হোসেন। সোনারগাঁ থানার ওসি আব্দুল বারিক জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং পরোয়ানা অভিযুক্তদের গ্রেফতার সংক্রান্ত এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও চালু থাকবে।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেতে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হলে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৬ আসনে শীর্ষে দাঁড়িয়েছে। তবে তার শাসনের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত, কারণ ডানপন্থী বিরোধী জোটের মোট আসন ৫৩, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১‑এর চেয়ে কম। নেতানিয়াহু তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের রাজনীতিতে নানা সংকট পেরিয়ে ক্ষমতায় টিকে আছেন। বহুবার তার রাজনৈতিক বিদায়ের পূর্বাভাস দেওয়া হলেও তিনি সর্বদা ফিরে এসে শাসন বজায় রেখেছেন। এইবারের নির্বাচন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত দিতে পারে, তবে তা নিশ্চিত করা এখনো কঠিন। গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত লিকুদ পার্টি ২৬ আসনে বৃহত্তম দল, আর তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোটের কাছে আনুমানিক ৫৩টি আসন রয়েছে। বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য মোট আসন প্রায় ৬৭, তবে আদর্শিক ও রাজনৈতিক পার্থক্যের কারণে ঐক্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিরোধীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গিদিয়ন আইজেনকটের দল ২১টি আসন পেয়েছে। আরব দলগুলোকে বাদ দিলে ইহুদি বিরোধী দলগুলোর আসনসংখ্যা মাত্র ৪৮, ফলে সরকার গঠনে তাদের আরব দলগুলোর সমর্থন অপরিহার্য। ইসরায়েলের আরব ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট দল একত্রে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে পারে। তবে আইজেনকটের ডানপন্থী মিত্র নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান আরব দলগুলোর সমর্থননির্ভর সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে জয়েন্ট লিস্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটাতে তারা রাজনৈতিক সহযোগিতায় প্রস্তুত। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, আরব ও ইহুদি দলগুলোর সহযোগিতায় বিরোধীদের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নষ্ট করাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য, এবং এজন্য বিরোধী আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। লিকুদ পার্টি ইতিমধ্যে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছে, যা নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ বর্তমানে তদন্ত করছে। বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানসহ কোনো নিরাপত্তা সংকট তৈরি বা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। পূর্বে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে যৌথ হামলার পক্ষে চাপ দিয়েছিলেন, যদিও বিভিন্ন কারণে ওয়াশিংটন সেই পরিকল্পনা স্থগিত করেছিল। ভোট গণনা শেষ হলে, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ নির্বাচিত দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী মনোনয়ন করবেন। সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দলই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনোনয়ন পাবে না; বরং যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি, তাকেই বেছে নেওয়া হবে। আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে আইজেনকটের শীর্ষে থাকা প্রার্থী এগিয়ে থাকতে পারে। মনোনীত প্রার্থীকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হবে, প্রয়োজনে অতিরিক্ত ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে। যদি তিনি ব্যর্থ হন, অন্য প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হবে; সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে আবার নতুন নির্বাচন হতে পারে। নতুন সরকার গঠন না হলেও, বিরোধীরা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে নেসেটের স্পিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনতে এবং আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিতে পারে। তবে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় ঐক্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় হার্জগ নতুন নির্বাচন এড়াতে দলগুলোর সঙ্গে ‘খোলা মন’ নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন, এবং নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় রয়েছেন।
জনবল সংকট ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন বিকল, বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তিনারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কাগজে-কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও বাস্তবে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে হাসপাতালটির কার্যক্রম। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের। অন্যদিকে প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে শয্যাসংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী জনবল ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় হাসপাতালটির সেবার পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করা না গেলে রোগীদের চাপ সামলানো এবং মানসম্মত সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।এদিকে বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালের একমাত্র আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের দুর্ভোগ বেড়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে তাঁদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। ফলে সরকারি হাসপাতালে কম খরচে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও মেশিনটি বিকল থাকায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে রোগীদের। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য এ বাড়তি ব্যয় আরও চাপ তৈরি করছে।স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, দ্রুত আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি সচল করার পাশাপাশি হাসপাতালের শূন্য পদগুলো পূরণ, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁদের মতে, শুধু কাগজে-কলমে শয্যাসংখ্যা বাড়ালেই হবে না; সেই অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সরঞ্জাম ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করতে হবে।সোনারগাঁয়ের বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসার জন্য এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের কাছে সরকারি হাসপাতালই চিকিৎসার অন্যতম ভরসা। এ অবস্থায় হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন রোগীদের ভোগান্তি কমবে, অন্যদিকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভরশীলতাও কমবে।এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের সহযোগিতা চেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাসেল আহমেদ ভূঁইয়া জানান, হাসপাতালের প্রয়োজনীয় জনবল ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা চলছে।সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকট নিরসন, বিকল আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন সচল করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।সোনারগাঁবাসীর দাবি, ৫০ শয্যার হাসপাতাল যেন বাস্তবেও পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে পরিচালিত হয়। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুফল যেন সাধারণ মানুষ নিজ এলাকায় থেকেই পেতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ, জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
তরিকুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সোনারগাঁ উপজেলা যুবদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজিব।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টিপুরদী এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি মোগরাপাড়া চৌরাস্তা প্রদক্ষিণ করে পিরোজপুর ইউনিয়নের শুকতারা সিএনজি পাম্পের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে যুবদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন।র্যালি শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাইরুল ইসলাম সজিব বলেন, “জাতীয়তাবাদী যুবদল উড়ে এসে জুড়ে বসেনি। বিগত ১৭ বছর রাজপথে লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমেই আজকের এই নতুন স্বৈরাচারমুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে, যেখানে মুখ্য ভূমিকায় ছিল এই যুবদল।”তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে একটি শান্তিপূর্ণ ও উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সোনারগাঁয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালিত হয়।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের সম্মাননা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা কার্যক্রমের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আগামী ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এমপি।শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের সম্মাননা দেওয়া হবে। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হান্নান মাসউদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মো. সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, নারী বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়রা নূর এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ উদ্দিন সিফাতের।এ ছাড়া জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তৌহিদ মো. সিয়ামের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম।আয়োজনের বিষয়ে ছাত্রশক্তির নোবিপ্রবি শাখার আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, “নতুন সংগঠন হিসেবে আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো কিছু করতে। সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন, যার প্রায় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৪ সালের একদফার ঘোষক নাহিদ ইসলাম আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকবেন। আশা করি, সবার সহযোগিতায় আয়োজনটি সফল হবে।”
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।