মোঃ সুমন মন্ডল, জয়পুরহাট প্রতিনিধি:জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার ২নং জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা মোঃ সাজ্জাদুল হকের উদ্যোগে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোলামগাড়ীহাট, বাখড়া ও বেলগাড়ি এলাকার জনসাধারণকে নিয়ে বিশাল উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় মোলামগাড়ীহাট গ্রামের ছুমির প্রামাণিকের খোলায় এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানে প্রায় ৭ হাজার মানুষ উপস্থিত থেকে সাজ্জাদুল হকের প্রতি সমর্থন জানান।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ২নং জিন্দারপুর ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন সাবেক ছাত্রনেতা নওফেল ইসলাম।এ সময় উপস্থিত ছিলেন কালাই উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, জয়পুরহাট জেলা যুবদলের সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মোঃ ফিরোজ কবির, কৃষিবিদ মামুনুর রশিদ চৌধুরী এবং বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক ছাত্রনেতা রেজ্জাকুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ বৈঠকে অংশ নেন।উঠান বৈঠকে এলাকার রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।এ সময় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সাজ্জাদুল হক তাঁর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, ইউনিয়নের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিবছর ২০০ জন তরুণ-তরুণীকে বিনামূল্যে কারিগরি, কম্পিউটার ও ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিতে চান তিনি।পাশাপাশি গ্রামের বেকার নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ এবং ইউনিয়নের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা দল-মতনির্বিশেষে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে পাঠাগার স্থাপন এবং পুরো ইউনিয়নে একটি খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।এ ছাড়া প্রবীণদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম প্রতিষ্ঠা, ঐতিহ্যবাহী কুজাইল দিঘীকে কেন্দ্র করে আধুনিক বিনোদন পার্ক নির্মাণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে প্রতিটি ওয়ার্ডে যুবসমাজকে নিয়ে মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।সাজ্জাদুল হক বলেন, “আমি জিন্দারপুর ইউনিয়নের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে চাই। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডকে উন্নয়নের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই আমার পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।”এদিকে, উঠান বৈঠকে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ও সমর্থন পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাজ্জাদুল হক। তিনি উপস্থিত সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মানুষের ভালোবাসা ও আস্থার মর্যাদা রক্ষায় কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।বৈঠকে বক্তারা এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত যোগাযোগ, জবাবদিহি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় মানুষের মতামত ও প্রত্যাশা শোনা এবং নিজের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে উঠান বৈঠকের সমাপ্তি ঘটে।
সহজ ও দ্রুত খবরের আপডেট পেতে আমাদের অ্যাপটি ইন্সটল করুন।